; LH News | Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry.
  • ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ।
  • সর্বশেষ সংস্কার: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ।

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry.





জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক :: 

শিল্পনগর ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে অপ্রতিদ্বন্ধি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম চৌধুরী। একাধারে তিনি ছিলেন তিনবারের নির্বাচিত মেয়র। ২০০৪ সালে তিনি প্রথম পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পৌরবাসীর জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। গেল (১৮ ডিসেম্বর) শুক্রবার টানা চারবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেছেন। আগামী ১৬ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। 

পৌর নির্বাচনে নতুন মুখ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশিদা বেগম ন্যান্সি একমাত্র প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে এবার আবুল কালাম চৌধুরীর সাথে ভোটের লড়াই করবেন। রাশিদা বেগম ন্যান্সি ছিলেন ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। 

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী তার বিগত ১৫ বছর যাবৎ অবহেলিত ছাতক পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তারই হাত ধরে ৩য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণির পৌরসভাতে উন্নিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় তিনি রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মান, নতুন পৌর ভবনসহ পুরো পৌরসভাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছেন। অন্যান্য পৌরসভা থেকে তুলনামূলক ছাতক পৌরসভায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এবারও নির্বাচনে তার উপরেই আস্থা রাখতে চান ছাতক পৌরবাসী। 

জানা গেছে, বিগত ১৫ বছর ধরে ছাতক পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিত্ব করে তিনি সাধারণ জনগণের মন জয় করে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গিয়ে এবার পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। 

সাধারণ জনগণের কাছে তিনি  ‘কালাম ভাই’ নামে সবার কাছে সুপরিচিত। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় ভাবেও তিনি ব্যাপক আলোচিত। ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দলীয় পুর্ণসমর্তন পেয়ে যাচ্ছেন কালাম। 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায়, ছাতক আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য আবুল কালাম চৌধুরী বেশ প্রশংসিত। এর ফলধারায় তিনি বারবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্তন ও মনোনয়ন পেয়ে যাচ্ছেন। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাতক পৌরসভায় তার উপর আস্থা রেখেছেন। তার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আবুল কালাম চৌধুরী। 

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হোসেন সজল বলেন, ‘কালাম চৌধুরী রাজনীতির মাঠে একটি আবেগের নাম। মেয়র হিসেবে জনগণের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। পৌরসভার উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যান এমনকি এই ছাতক শহরের উন্নয়নের পিছনে সবটুকু অবদান মেয়র কালাম চৌধুরীর।’ আমরা বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনেও ছাতক পৌরবাসী তাদের যোগ্য মেয়র হিসেবে কালাম চৌধুরীর উপর আস্থা রাখবেন এবং তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। 

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় ঘোষ বলেন- ‘নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক। আমাদের ছোটভাই কালামের উপর বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার আস্থা রেখে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়ে তাকেন। আমরা ছাতক পৌরবাসী নৌকা প্রতীকে পুনরায় আবুল কালাম চৌধুরীকে নির্বাচিত করবো।’ তিনি আরও বলেন, কালাম চৌধুরীর তুলনা তিনি নিজেই। সে যেভাবে এই পৌরসভার উন্নয়ন করেছে তা আমরা পৌরবাসী কখনোই ভুলবো না। তার দক্ষতা ও মেধার ফল আমাদের ১ম শ্রেণির ছাতক পৌরসভা। তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আগামী দিনেও ছাতকবাসী তাকেই মেয়র পদে পুনরায় নির্বাচিত করবেন। 

পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারিছ আলী জানান, ২০০৪ সালে কালাম চৌধুরী নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আমাদের ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ও কার্লভার্ট নির্মান করে দিয়েছেন। মসজিদের ঈদগাহ প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ তিনি করেছেন। 

৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির আহমদ জানান, আমাদের বাঁশখলা গ্রামে বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মান করেছেন মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী। আগে আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিলো না। এখন বাঁশখলা গ্রাম পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে অনেক উন্নত। ভাজনামহল, কুমনা, শ্যামপাড়া ও গণক্ষাইয়ে তিনি ব্যাপক উন্নয়নমূলক ও নির্মাণ কাজ করেছেন। আগামী নির্বাচনে পৌরবাসী তাকে পুনরায় বিজয়ী করবেন প্রত্যাশা করি। 

জাকির হোসেন নামের একজন জানান, ১ নং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ৯ নং ওয়ার্ডের প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় তিনি রাস্তা নির্মাণ ও বিদ্যুৎ স্থাপন করে অনন্য দৃষ্টিস্থাপন করেছেন। যেকোন দুর্যোগ, মহামারিতে সবাই মেয়র কালামের সহযোগীতা পেয়ে থাকেন এবং তাকে সবসময় জনগণের কাছাকাছি পাওয়া যায়। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয় লাভের পর তিনি ঢাকা থেকে ফিরেই নিজ এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,  ‘আবুল কালাম চৌধুরী এলাকার সকল পিতৃতুল্য মুরুব্বিদের দোয়া নিয়ে পরদিন তিনি নিজের মনোনয়নপত্র জমা করেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় কালাম চৌধুরীকে নির্বাচিত করবেন বলে এলাকাবাসী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’

সিলেট মহানগর শ্রমীক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব মালাকার বলেন, মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী একজন শ্রমবান্ধব নেতা। করোনা মহাদুর্যোগের সময় শ্রমজীবিদের পাশে দাড়িয়েছিলেন। করোনা কালীন সময়ে তিনি সাধারণ শ্রমিকদের ব্যক্তিগত এবং সরকারি ভাবে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও সহযোগিতা দেন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ শ্রমজীবিসহ পুরো পৌরসভার সকল ভোটারগণ তাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। 

উল্লেখ্য, আবুল কালাম চৌধুরী ছাতক পৌরসভায় টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র। চতুর্থবারের মতো ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। গত রবিাবর (২০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়জুর রহমানের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। আজ মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) তার মনোনয়ন বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

Comments






ফেসবুকে আমরা