; LH News | Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry.
  • ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার ।
  • সর্বশেষ সংস্কার: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ।

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry.





ছাতকনিউজ ডেস্কঃ 
সিলেটের ওসমানীনগরে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাইজার মৃত্যু রহস্যের জট খুলেনি। বুধবার বিকালে ময়না তদন্ত শেষে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের রঙ্গিয়া গ্রামের মামার বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে। 

এ সময় ফাইজার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, শিশুটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেনা। এছাড়া তার গাঁয়ে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন খাসদরগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনন্দন কুমার দাসসহ উপস্থিত লোকজন। 

এ সময় ফাইজা হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার চেয়ে খাসদরগাহ বিদ্যালয় মাঠে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। 

আজ সন্ধ্যায় ফাইজার নানার বাড়িতে জানাজার পর ৭টায় ব্রাম্মনগ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। 

এদিকে লাশ উদ্ধারের পর তিনদিন অতিবাহিত হলেও এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে সৃষ্ট রহস্যের অবসান হয়নি এখনো। পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ গুরুত্ব না দিয়ে তার মা’র স্বাক্ষর নিয়ে তড়িগড়ি অপমৃত্যুর মামলা রুজুর  অভিযোগ করেছেন ফাইজার মামা আবুল কালাম। সবার দাবি  পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এটি মোটেও আত্মহত্যা নয়। 

তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের কাছে মিনতি জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো পুলিশ কৌশলে অপমৃত্যুর মামলা রুজু করিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সার্বিক বিষয়ে তিনি অবগত। পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়ায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

জানা যায়, সোমবার তুরণ মিয়া কাজে থাকাবস্থায় বিকেলে মা লায়লা বেগম মেয়েকে ঘরে রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে বাজারে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়িতে ফিরে বসত ঘরের তীরের সাথে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করেন তিনি। এসময় কয়েকজন এসে ঘরের লাইট অফ করে ফাইজার দেহ নামায়। এসময় লাইট অফের কারণ জানতে চেয়ে আরও জুরে চিৎকার শুরু করেন। কিন্তু তার দিকে কর্ণপাত না করে দ্রæত ফাইজাকে নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

খবর পেয়ে সোমবার রাতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ফাইজার তিন চাচাতো ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা রুজুর পর তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। 

ফাইজার মা লায়লা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘাতকরা লাশ ঝুলিয়ে রেখে গা ঢাকতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি বাড়ি আসায় তারা আলো নিভিয়ে দ্রæত লাশ নামায় এবং হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

সার্বিক বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানোর পরও পুলিশ পরদিন মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে এসেছিল। তারা দেরিতে আসায় ময়ন্ততদন্ত সম্পন্ন করতে তিনদিন সময় লেগেছে। তিনি বলেন, সোমবার আটককৃত আমার ভাসুরপুত্রদের  বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পরও পুলিশ হুমকির মাধ্যমে আমার স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। পারিবারিক কলহের কাল্পনিক গল্প ফেঁদে আত্মহত্যার গল্প ফেঁদেছে তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নেয়া বিবি বলেন, আমি খুব কাছ থেকে ফাইজার লাশ দেখেছি। মনে হচ্ছে, ধর্ষণের পর মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের গোসলের করানো উপজেলা আনসার ভিডিপির সহকারী কমান্ডার তাছলিমা বেগম ও নিকট আত্মীয় আছারুন বিবি বলেন, একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নখের আঁচড় দেখেছি। তার গোপনাঙ্গও ক্ষত-বিক্ষত ছিল। 

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মাকসুদুল আমিন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষনিক কয়েক জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। অপমৃত্যুর মামলা রুজুর পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পাওয়ার পর এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Comments






ফেসবুকে আমরা